হাঁটুর ব্যথাঃ
হাঁটুর সমস্যা গুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং প্রধান সমস্যা হচ্ছে ব্যথা । কারনভেদে, কাঠামোগত ভাবে বা বয়সভেদে বিভিন্ন কারনে হাঁটু ব্যথা হতে পারে যেমন - প্রদাহ জনিত কারনে , ক্ষয়জনিত কারনে বা আঘাতজনিত কারনে এ ব্যথা হতে পারে ।কিশোর ও যুবক বয়সে খেলাধুলায় আঘাত ও দুর্ঘটনা জনিত আঘাতের কারনেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হাঁটুর ভিতরে মিনিসকাস বা রগ ছিঁড়ে গিয়ে এ ব্যথা হয়। মধ্যবয়সের পর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাতজনিত কারনে ব্যথা হয় । তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কম বয়সেও বাতজনিত ব্যথা হয় সেইটা হল juvenile arthritis ধরনের।
হাঁটুতে ব্যথা হলে করনীয়ঃ
প্রকারভেদে ব্যথার কারণ যেমন ভিন্ন তেমনি চিকিৎসাও বিভিন্ন রকম ব্যথায় বিভিন্ন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হালকা ব্যথার ওষুধই যথেষ্ট। আঘাতজনিত ব্যথায় কোনো কোনো সময় প্লাস্টার এবং ব্যথার ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করতে হয় একই সাথে বিশ্রাম জরুরি। আবার বাতজনিত কারনে হাঁটুর ব্যথা মাঝে মাঝে এমন হয় যে , কোনো ব্যথার ওষুধই কাজ করে না। যে কারনেই হোক , এ পরিস্থিতিতে একজন হাঁটু বিশেষজ্ঞ বা আর্থপেডিক সার্জনের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন ।
বাতজনিত কারনে হাঁটুর ব্যথাঃ
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মধ্য বয়সের পর অর্থাৎ বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাঁটুর ব্যথা হলে বাতজনিত কারনেই বেশি হয়ে থাকে। osteo-arthritis(OA), Rheumatoid arthrities(RA) - এর বিভিন্ন লক্ষণগুলো ভিন্ন রকম। RA ব্যথা উভয় হাঁটুতে বা অন্যান্য joint এর উভয় দিকে , সকালে ঘুম থেকে উঠার পর জ্যাম জ্যাম লাগা ইত্যাদি। কিছুক্ষণ কাজকর্ম করলে তা কিছুটা কমে । joint এর বাইরে অন্যান্য কিছু লক্ষন যেমন - লাসিকা গ্রন্থি বড় হওয়া গোটার মত কোন কোন স্থান এ দেখা যেতে পারে এবং মাংস পেশি দুর্বল হওয়া ইত্যাদি। অন্য দিকে OA - ব্যথা উভয় দিকে নাও হতে পারে অর্থাৎ বেশির ভাগ সময় হাঁটুর ভেতরের অংশে প্রথম ব্যথা শুরু হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মাত্রাও বেড়ে যেতে পারে। ভারী কাজকর্ম বা হাঁটাহাঁটি বেশি করলে এ ব্যথা বাড়তে পারে ।
করনীয়ঃ
OA বা RA যে কারনেই হাঁটুর ব্যথা হোক প্রাথমিক অবস্থায় হালকা ব্যথার ওষুধ , ফিজিওথেরাপি, দৈনন্দিন কাজ কর্মের পরিবর্তন এবং হাঁটুর ভেতরে injection ইত্যাদি দিয়ে ধাপে ধাপে চিকিৎসা করা যেতে পারে। ছিদ্র করে Arthroscopy এর মাধ্যমে পরিষ্কার বা debridetment করলে সাময়িক উপকার হতে পারে। বেশি সমস্যা হলে একটা পর্যায়ে গিয়ে যখন কোন ওষুধ বা ইঞ্জেকশান এ ব্যথা কমে না । হাঁটু ভাজ করে নিচে বসা যায় না, নামাজ পরা যায় না , নিচে বসে বাথরুম করা যায় না । এমনকি রাতে ঘুমাতে গেলেও হাঁটুতে ব্যথা করে । মাসের পর মাস গেলেও চিকিৎসা করেও হাঁটুর ব্যথা কমে না । এক্সরে করলে দেখা যায় হাঁটু ক্ষয় হয়ে গেছে এবং joint space কমে গেছে । এসব ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক চিকিৎসা হল হাঁটুর সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপন (Total Knee replacement (TKR)) এ জীবনযাত্রা মান উন্নতি হয়। ঠিকমতো এবং নিয়মতান্ত্রিক চলাফেরা করলে ১২-১৫ বা কোন কোন ক্ষেত্রে আরও বেশি বছর ভালো থাকা যায়। অপারেশন এর পর মাঝে মাঝে ডাক্তার এর পরামর্শ নেয়া এবং নিয়মিত ফিজিওথেরাপি জরুরি ।
হাঁটুর প্রতিস্থাপন কি?
নষ্ট হয়ে যাওয়া হাঁটুর ওপরের এবং নিচের হাড়ের কিছু অংশ কেটে ফেলে দিয়ে এতে কৃত্রিম হাঁটু ফিট করা যায় । ওপরে ও নিচে মেটাল এবং মাঝখানে প্লাস্টিক জাতীয় উন্নতমানের জিনিস লাগানো হয়। এ অপারেশনের ফলে বেশির ভাগ ব্যথা কমে যায় এবং অনেক স্বাভাবিক জীবনযাপন করা যায়। এটা একটা মেজর অপারেশন।
কোন কোন পরিস্থিতে হাঁটুর সম্পুর্ন প্রতিস্থাপন করবেনঃ
কোনো অবস্থাতেই যেসব ক্ষেত্রে হাঁটুর সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপন করা যাবে নাঃহাঁটুর সমস্যা গুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং প্রধান সমস্যা হচ্ছে ব্যথা । কারনভেদে, কাঠামোগত ভাবে বা বয়সভেদে বিভিন্ন কারনে হাঁটু ব্যথা হতে পারে যেমন - প্রদাহ জনিত কারনে , ক্ষয়জনিত কারনে বা আঘাতজনিত কারনে এ ব্যথা হতে পারে ।কিশোর ও যুবক বয়সে খেলাধুলায় আঘাত ও দুর্ঘটনা জনিত আঘাতের কারনেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হাঁটুর ভিতরে মিনিসকাস বা রগ ছিঁড়ে গিয়ে এ ব্যথা হয়। মধ্যবয়সের পর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাতজনিত কারনে ব্যথা হয় । তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কম বয়সেও বাতজনিত ব্যথা হয় সেইটা হল juvenile arthritis ধরনের।
হাঁটুতে ব্যথা হলে করনীয়ঃ
প্রকারভেদে ব্যথার কারণ যেমন ভিন্ন তেমনি চিকিৎসাও বিভিন্ন রকম ব্যথায় বিভিন্ন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হালকা ব্যথার ওষুধই যথেষ্ট। আঘাতজনিত ব্যথায় কোনো কোনো সময় প্লাস্টার এবং ব্যথার ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করতে হয় একই সাথে বিশ্রাম জরুরি। আবার বাতজনিত কারনে হাঁটুর ব্যথা মাঝে মাঝে এমন হয় যে , কোনো ব্যথার ওষুধই কাজ করে না। যে কারনেই হোক , এ পরিস্থিতিতে একজন হাঁটু বিশেষজ্ঞ বা আর্থপেডিক সার্জনের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন ।
বাতজনিত কারনে হাঁটুর ব্যথাঃ
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মধ্য বয়সের পর অর্থাৎ বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাঁটুর ব্যথা হলে বাতজনিত কারনেই বেশি হয়ে থাকে। osteo-arthritis(OA), Rheumatoid arthrities(RA) - এর বিভিন্ন লক্ষণগুলো ভিন্ন রকম। RA ব্যথা উভয় হাঁটুতে বা অন্যান্য joint এর উভয় দিকে , সকালে ঘুম থেকে উঠার পর জ্যাম জ্যাম লাগা ইত্যাদি। কিছুক্ষণ কাজকর্ম করলে তা কিছুটা কমে । joint এর বাইরে অন্যান্য কিছু লক্ষন যেমন - লাসিকা গ্রন্থি বড় হওয়া গোটার মত কোন কোন স্থান এ দেখা যেতে পারে এবং মাংস পেশি দুর্বল হওয়া ইত্যাদি। অন্য দিকে OA - ব্যথা উভয় দিকে নাও হতে পারে অর্থাৎ বেশির ভাগ সময় হাঁটুর ভেতরের অংশে প্রথম ব্যথা শুরু হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মাত্রাও বেড়ে যেতে পারে। ভারী কাজকর্ম বা হাঁটাহাঁটি বেশি করলে এ ব্যথা বাড়তে পারে ।
করনীয়ঃ
OA বা RA যে কারনেই হাঁটুর ব্যথা হোক প্রাথমিক অবস্থায় হালকা ব্যথার ওষুধ , ফিজিওথেরাপি, দৈনন্দিন কাজ কর্মের পরিবর্তন এবং হাঁটুর ভেতরে injection ইত্যাদি দিয়ে ধাপে ধাপে চিকিৎসা করা যেতে পারে। ছিদ্র করে Arthroscopy এর মাধ্যমে পরিষ্কার বা debridetment করলে সাময়িক উপকার হতে পারে। বেশি সমস্যা হলে একটা পর্যায়ে গিয়ে যখন কোন ওষুধ বা ইঞ্জেকশান এ ব্যথা কমে না । হাঁটু ভাজ করে নিচে বসা যায় না, নামাজ পরা যায় না , নিচে বসে বাথরুম করা যায় না । এমনকি রাতে ঘুমাতে গেলেও হাঁটুতে ব্যথা করে । মাসের পর মাস গেলেও চিকিৎসা করেও হাঁটুর ব্যথা কমে না । এক্সরে করলে দেখা যায় হাঁটু ক্ষয় হয়ে গেছে এবং joint space কমে গেছে । এসব ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক চিকিৎসা হল হাঁটুর সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপন (Total Knee replacement (TKR)) এ জীবনযাত্রা মান উন্নতি হয়। ঠিকমতো এবং নিয়মতান্ত্রিক চলাফেরা করলে ১২-১৫ বা কোন কোন ক্ষেত্রে আরও বেশি বছর ভালো থাকা যায়। অপারেশন এর পর মাঝে মাঝে ডাক্তার এর পরামর্শ নেয়া এবং নিয়মিত ফিজিওথেরাপি জরুরি ।
হাঁটুর প্রতিস্থাপন কি?
নষ্ট হয়ে যাওয়া হাঁটুর ওপরের এবং নিচের হাড়ের কিছু অংশ কেটে ফেলে দিয়ে এতে কৃত্রিম হাঁটু ফিট করা যায় । ওপরে ও নিচে মেটাল এবং মাঝখানে প্লাস্টিক জাতীয় উন্নতমানের জিনিস লাগানো হয়। এ অপারেশনের ফলে বেশির ভাগ ব্যথা কমে যায় এবং অনেক স্বাভাবিক জীবনযাপন করা যায়। এটা একটা মেজর অপারেশন।
কোন কোন পরিস্থিতে হাঁটুর সম্পুর্ন প্রতিস্থাপন করবেনঃ
- তীব্র বাতজনিত ব্যথা যা অন্যান্য চিকিৎসায় নিরাময় যোগ্য নয়।
- বাতজনিত ব্যথা এবং বিকৃত হাঁটু ।
- আঘাতজনিত কারনে তীব্র ব্যথা যা ওষুধেও নিরাময়যোগ্য নয় ।
- অন্যান্য আরো কিছু শর্ত আছে যেইখানে সার্জনকে সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপন এর সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
- সম্প্রতি হাঁটুর ইনফেকশন হলে।
- শরীরের অন্যান্য যায়গায় কোনো ইনফেকশন থাকলে।
- মাংসপেশি বেশি দুর্বল এবং হাঁটুর পেছন দিকে বেশি হেলে গেলে।
- হাঁটুর সামনের দিকের Extensor apparatus যেমন - বাটি , রগ বা মাংসপেশির discontinuity বা dysfunction থাকলে।
অপারেশনর পরবর্তী সময়ে করনীয়ঃ
- তিন চার দিন পর ওয়াকারের সাহায্য নিয়ে হাটা যায় ।
- আস্তে আস্তে হাঁটু ভাঁজ করার ব্যায়াম ।
- বিছানা বা চেয়ারের পাশে পা ভাঁজ করে বসা।
- উরুসহ পায়ের অন্যান্য মাংসপেশি মজবুতকরনের ব্যায়াম।
- পায়ে ভর দিয়ে হাঁটা ইত্যাদি ।
ডাঃ ওয়াকিল আহমদ
এমবিবিএস(সিইউ), এম পি এস (সার্জারি) এম এস (আর্থো:) , ফেলো, স্পোর্টস মেডিসিন(সিঙ্গাপুর)

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন