মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৫

জিমে না গিয়েও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়

সারা বিশ্বে এখন স্লিম ফিগারের জয়জয়কার । মেদ বিহীন ছিপছিপে আকর্ষণীয় দেহের গড়ন সবার প্রিয়। এই প্রত্যাশা পূরণ করা খুব একটা কঠিন নয় । পরিমিত সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং নিয়মিত শরীর চর্চার মাধ্যমে স্বাভাবিক ওজন আর সুস্থ শরীরের অধিকারী হওয়া সহজেই সম্ভব । এর জন্য নিয়মিত জিমে যাওয়ার প্রয়োজন নাই ।

মোটা হওয়ার কারনঃ
  •  সাধারনত বংশগত কারনেই মোটা হওয়ার প্রবনতা থাকে।
  • অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ মোটা হওয়া বা ওজন বাড়ার অন্যতম কারণ।
  • এ ছাড়া পরিশ্রমবিহীন অলস জীবনযাপনও মোটা হওয়ার কারণ।
  • আধুনিক জীবনযাত্রায় ফাস্টফুড খাওয়া মোটা হওয়ার জন্য দায়ী।
  • অ্যালকোহলে , অ্যানার্জি ড্রিঙ্কস ইত্যাদি কোমল পানীয় মোটা হওয়ার ঝুকি বাড়িয়ে দেয়।
ওজন নিয়ন্ত্রন রাখার উপায়ঃ
 ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে সহজ ও প্রাকৃতিক উপায় হচ্ছে সুষম খাদ্য তালিকা , যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেড ও ফাইবার আছে , মাঝারি পরিমাণে প্রোটিন আছে এবং কম পরিমাণে ফ্যাট আছে।
  • আপনার কাজের ধরন অনুযায়ী আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা তৈরি করুন।
  • আপনার পছন্দ-অপছন্দের খাবার , বর্তমান খাদ্যাভ্যাস এবং আপনার কাজের দিকে লক্ষ রেখে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা করি করুন।
  • আপনার খাদ্য তালিকায় যাতে আঁশযুক্ত খাবার , ভিটামিন , মিনারেল যথেষ্ট পরিমানে থাকে সে দিকে লক্ষ রাখুন।
  • অতিরিক্ত মুটিয়ে যাওয়া কমাতে সব ধরনের চর্বি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে প্রতিদিন যথেষ্ট পরিমানে ফল ও শাকসবজি খাবেন।
  • অসময়ে ক্ষুধা পেলে স্বাস্থ্যসম্মত হালকা কিছু খাবেন।
  • দুপুর ও রাতের খাওয়ার মাঝে অথবা খুব ক্ষুধা পেলে শুকনো রুটি , টোস্ট বিস্কুট , মৌসুমি ফল , ফলের রস , সবজির রস কিংবা সালাত খেতে পারেন।
  • বারবার খাবেন কিন্ত অল্প অল্প করে খাবেন।
  • রাতে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানোর চেষ্টা করবেন।
বাড়িতে ব্যায়ামের কিছু পদ্ধতিঃ

স্পট-জগিংঃ শরীর সুস্থ রাখতে জগিং খুব ভাল ব্যায়াম । বাড়ির বারান্দায় বা যযেকোনো জায়গায় ২ থেকে ৫ মিনিট স্পট জগিং করবেন।

স্টেচিংঃ বিভিন্ন ধরনের স্টেচিং ব্যায়াম যেমন - আর্ম স্টেচিং বা লেগ ফিল্টিং করতে পারেন। এটি ২ থেকে ৫ মিনিট করবেন। এতে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্তসঞ্চালন ভালো হয় এবং বিভিন্ন অংশের ফ্যাট ঝরে পরে।

আর্ম ফ্রন্ট-রাইজ ও সাইড রাইজঃ সোজা হয়ে দাড়িয়ে দুই হাত সোজা করে একসাথে সামনের দিকে মাথার ওপরে তুলবেন এবং নামিয়ে আনবেন ১৫ থেকে ২৫ বার । একইভাবে দুহাত সোজাভাবে শরীরের দুই পাশ থেকে মাথার ওপরে তুলবেন এবং নামাবেন ১৫ থেকে ২৫ বার।

পুশ-আপসঃ পুশ-আপস বা বুকডন করলে চেস্ট ও আর্মস মাসেলের শক্তি বাড়ে। পুশ-আপসের সময় লক্ষ রাখবেন যেন হাঁটুতে ভাঁজ না পরে এবং হাঁটু , কোমর বা পিঠ একই সমতলে থাকে। প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ বার করবেন।

সিটস-আপসঃ ভুড়ি কমাতে এবং পেটের মাসলের স্ট্রেংথ বাড়াতে সিটস আপস অত্যন্ত কার্যকর । মাটিতে সোজা হয়ে শুয়ে দুহাত বিপরীত কাঁধের উপর ( ডান হাত বাম কাঁধের ওপর এবং বাম হাত ডান কাঁধের উপর) রাখুন। এরপর কোমরের উপর ভর দিয়ে শরীরের ওপরের অংশ ধীরে ধীরে মাটি থেকে যতটা সম্ভব তোলার চেষ্টা করুন (সম্ভব হলে বসুন) এবং মাঝামাঝি অবস্থানে ৫ সেকেন্ড থাকুন। আবার ধীরে ধীরে শোয়া অবস্থায় ফিরে যান। এভাবে প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ বার করবেন ।

স্কিপিংঃ  স্কিপিং বা দড়ি লাফ দড়ি ছাড়াও করা যেতে পারে। দুই হাত দুই দিকে সোজাভাবে প্রসারিত করে কাধে বার বার রাখুন । এবার পায়ের পাতার উপর ভর দিয়ে ১ মিনিট লাফান। এরপর ১ মিনিট করে বিরতি দিয়ে তিন থেকে পাঁচবার সাইকেলটা রিপিট করুন।


মনে রাখবেন সুস্থ থাকার চাবিকাঠি আপনার হাতেই। তাই ধূমপান , মদপানসহ সব ধরনের বদ অভ্যাস ত্যাগ করুন। মিষ্টি , চর্বিজাতীয় সব খাবার এবং ভাজাভুনা এড়িয়ে চলুন। জিমে না গিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে ওজন রাখাটাই বড় সাফল্য। 

ডাঃ এ কে এম শহীদুর রহমান 
এম বি বি এস
মেডিক্যাল অফিসার 
কিডনি রোগ বিভাগ ( নেফ্রোলজি)
বি এস এম এম এউ , শাহাবাগ , ঢাকা 

শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

শ্বাসকষ্ট রোগীদের করনীয়

কী কী কারনে শ্বাসকষ্ট হয়?
হৃদরোগ , ফুসফুসের রোগ , বুকের খাঁচার হাড়ের রোগ , মানসিক দুশ্চিন্তার কারনে শ্বাসকষ্ট হতে পারে ।
শ্বাসকষ্ট রোগীর কী কী জিনিস পরিহার করতে হবে?
তুলো , ঠাণ্ডা , পোষা কুকুর , বিড়াল , ঘরে কার্পেট , আলো , অন্ধকার স্যাতসেতে ঘর , ঘর ঝাড়ু দেওায়া পরিহার করা উচিত।
কী কী কাজ করা উচিত নয়?
ঘরের ঝুল ঝাড়া , গুঁড়ো মসলা , চাল ,ডাল , গম ঝারার কাজ বা বাছার কাজ পরিহার করতে হবে।
খাদ্যের ব্যাপারে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে?
যেসব খাবারে শ্বাসকষ্ট বাড়ে যেমন - ঠাণ্ডা জিনিস , আইসক্রিম , চিংড়ি মাছ , খেজুরের রসের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
ওষুধের ব্যাপারে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে?
ইকোস্প্রিন ,  অ্যাডলক , ইনডেভার , টেনোরেন , টেনোলক , কার্ভিস্টা কাডিট্যাব ডিলাট্রেড জাতীয় ওষুধ , শরীরের ব্যথার ওষুধ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া উচিত নয়।
শীতকালে কি কী সতর্কতা নিতে হবে?
শীতকালে গোসলে , অজুতে বা হাত-পা ধুতে যথাসম্ভব গরম পানি ব্যবহার করতে হবে, কুসুম গরম পানি পান করতে হবে।
পেশাগত কারনে শ্বাসকষ্ট হলে কি করা উচিত?
প্রয়োজনে পেশা পরিবর্তন করতে হবে । অন্যথায় কম ধুলোর স্থানে কাজকে পরিবর্তন করা । কাজের সময় নাক ও মুখের উপর পাতলা কাপড়ের মাস্ক বা মুখোশ ব্যবহার করতে হবে।
শ্বাসকষ্ট রোগীর চিকিৎসায় পরিবারের ভুমিকা কী?
 মানসিক চাপ , উৎকণ্ঠা , দুশ্চিন্তার কারণ হলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগীর আর্থিক ও সামাজিক সমস্যা , যা শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ । আর তাই পরিবারের অন্য সবার দায়িত্ব রোগীর মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
শ্বাসকষ্ট রোগীর কী কী সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত ?
ধূমপান করা যাবে না , এমনকি অন্য কেউ করলে নাকে রুমাল ব্যবহার করতে হবে। পরিশ্রম ও দৌড়াদৌড়ি করে শ্বাসকষ্ট হলে উপযুক্ত ওষুধ সেবনের পর তা করতে হবে অন্যথায় অতিরিক্ত পরিশ্রম এর কাজ পরিহার করতে হবে।

Health Magazine(ibne sina)
পরামর্শক
ডাঃ মোঃ তৌফিকুর রহমান ফারুক
এম বি বি এস , এফ সি পি এস (মেডিসিন) , এমডি (কার্ডিওলজি)
সহযোগী অধ্যাপক (কার্ডিওলজি) মেডিসিন
জাতীয় হৃদরোগ ইনিস্টিটিউট ও হাসপাতাল

বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

ব্যায়ামে মস্তিষ্কের চিন্তাশক্তি বারে

বয়ঃবৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের ব্রেন ও মস্তিষ্কের কোনো কোনো অংশ শুকিয়ে যায় এবং কোনো অংশ সঙ্কুচিত হয়। ফলে বৃদ্ধদের সৃতি শক্তি হারায় এবং চিন্তা শক্তি ধীরস্থির হয়ে যায়। ব্যায়াম বৃদ্ধদের চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি করে ও সমস্যা সমাধানের চিন্তার দক্ষতা বাড়িয়ে দেয়। অধিকন্তু যারা বিভিন্ন জীবজন্তু নিয়ে গবেষণা করেন তারা বলেন বায়জীবী ব্যায়াম বা শ্বাসপ্রশ্বাস এর ব্যায়াম জীবদেহে কার্ডিওভাসকুলার শক্তি বাড়ায় ও মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনায়ন করে। ইলিনয়েজ ইউনিভার্সিটি এর এক গবেষণায় গবেষকরা পেয়েছেন যে , ৬০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী বৃদ্ধরা যদি অ্যারোবিক ব্যায়াম (সাধারণ ব্যায়াম ) করেন সপ্তাহে তিন দিন এক ঘণ্টা করে, তাহলে তাদের মস্তিষ্কের ভলিউম বেড়ে যায়। MRI Scan করে দেখা গেছে , এতে মস্তিষ্কে নতুন Brain cell তৈরি হয় এবং সেগুলোর সাথে যোগাযোগ স্থাপিত হয়। যারা নিয়মিত হাঁটেন , ছয় মাস পর তাদের ব্রেনের MRI করে দেখা গেছে তাদের মস্তিষ্কে যারা ব্যায়াম করে না তাদের চেয়ে তিন গুন সজীব । এ থেকে অনুমান করা যায় যে , তাদের এই সজীব মস্তিষ্ক শক্তিশালী ও সমস্যা সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বাড়ায় । বয়স যাই হোক না কেন । আমরা ভাবি বার্ধক্যে মস্তিষ্কে নতুন কোষ তৈরি হয় না । কিন্তু সর্বশেষ গবেষণা বলছে , 'Neurogenesis' কে উৎসাহিত বা অনুপ্রাণিত করা যায় । তবে গবেষকরা বলেনি যে , ব্যায়াম আলঝিমার্স ও ডিসেনশিয়া রোগ কিভাবে রোধ করা সম্ভব কিনা। হয়ত গবেষণা চলছে ।

- জার্নাল অব নিউরোলজিক্যাল প্রবলেমস অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট
Illinois U.S.A

বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

হাঁটুর সমস্যা এবং প্রতিকার

হাঁটুর ব্যথাঃ
হাঁটুর সমস্যা গুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং প্রধান সমস্যা হচ্ছে ব্যথা । কারনভেদে, কাঠামোগত ভাবে বা বয়সভেদে বিভিন্ন কারনে হাঁটু ব্যথা হতে পারে যেমন - প্রদাহ জনিত কারনে , ক্ষয়জনিত কারনে বা আঘাতজনিত কারনে এ ব্যথা হতে পারে ।কিশোর ও যুবক বয়সে খেলাধুলায় আঘাত ও দুর্ঘটনা জনিত আঘাতের কারনেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হাঁটুর ভিতরে মিনিসকাস বা রগ ছিঁড়ে গিয়ে এ ব্যথা হয়। মধ্যবয়সের পর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাতজনিত কারনে ব্যথা হয় । তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কম বয়সেও বাতজনিত ব্যথা হয় সেইটা হল juvenile arthritis ধরনের।

হাঁটুতে ব্যথা হলে করনীয়ঃ
প্রকারভেদে ব্যথার কারণ যেমন ভিন্ন তেমনি চিকিৎসাও বিভিন্ন রকম ব্যথায় বিভিন্ন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হালকা ব্যথার ওষুধই যথেষ্ট। আঘাতজনিত ব্যথায় কোনো কোনো সময় প্লাস্টার এবং ব্যথার ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করতে হয় একই সাথে বিশ্রাম জরুরি। আবার বাতজনিত কারনে হাঁটুর ব্যথা মাঝে মাঝে এমন হয় যে , কোনো ব্যথার ওষুধই কাজ করে না। যে কারনেই হোক , এ পরিস্থিতিতে একজন হাঁটু বিশেষজ্ঞ বা আর্থপেডিক সার্জনের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন ।

বাতজনিত কারনে হাঁটুর ব্যথাঃ
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মধ্য বয়সের পর অর্থাৎ বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাঁটুর ব্যথা হলে বাতজনিত কারনেই বেশি হয়ে থাকে। osteo-arthritis(OA), Rheumatoid arthrities(RA) - এর বিভিন্ন লক্ষণগুলো ভিন্ন রকম। RA ব্যথা উভয় হাঁটুতে বা অন্যান্য joint  এর উভয় দিকে , সকালে ঘুম থেকে উঠার পর জ্যাম জ্যাম লাগা ইত্যাদি। কিছুক্ষণ কাজকর্ম করলে তা কিছুটা কমে । joint এর বাইরে অন্যান্য কিছু লক্ষন যেমন - লাসিকা গ্রন্থি বড় হওয়া গোটার মত কোন কোন স্থান এ দেখা যেতে পারে এবং মাংস পেশি দুর্বল হওয়া ইত্যাদি। অন্য দিকে OA - ব্যথা উভয় দিকে নাও হতে পারে অর্থাৎ বেশির ভাগ সময় হাঁটুর ভেতরের অংশে প্রথম ব্যথা শুরু হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মাত্রাও বেড়ে যেতে পারে। ভারী কাজকর্ম বা হাঁটাহাঁটি বেশি করলে এ ব্যথা বাড়তে পারে ।
করনীয়ঃ
OA বা RA যে কারনেই হাঁটুর ব্যথা হোক প্রাথমিক অবস্থায় হালকা ব্যথার ওষুধ , ফিজিওথেরাপি, দৈনন্দিন কাজ কর্মের পরিবর্তন এবং হাঁটুর ভেতরে injection ইত্যাদি দিয়ে ধাপে ধাপে চিকিৎসা করা যেতে পারে। ছিদ্র করে Arthroscopy এর মাধ্যমে পরিষ্কার বা debridetment করলে সাময়িক উপকার হতে পারে। বেশি সমস্যা হলে একটা পর্যায়ে গিয়ে যখন কোন ওষুধ বা ইঞ্জেকশান এ ব্যথা কমে না । হাঁটু ভাজ করে নিচে বসা যায় না, নামাজ পরা যায় না , নিচে বসে বাথরুম করা যায় না । এমনকি রাতে ঘুমাতে গেলেও হাঁটুতে ব্যথা করে । মাসের পর মাস গেলেও চিকিৎসা করেও হাঁটুর ব্যথা কমে না । এক্সরে করলে দেখা যায় হাঁটু ক্ষয় হয়ে গেছে এবং joint space কমে গেছে । এসব ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক চিকিৎসা হল হাঁটুর সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপন (Total Knee replacement (TKR)) এ জীবনযাত্রা মান উন্নতি হয়। ঠিকমতো এবং নিয়মতান্ত্রিক চলাফেরা করলে ১২-১৫ বা কোন কোন ক্ষেত্রে আরও বেশি বছর ভালো থাকা যায়। অপারেশন এর পর মাঝে মাঝে ডাক্তার এর পরামর্শ নেয়া এবং নিয়মিত ফিজিওথেরাপি জরুরি ।
হাঁটুর প্রতিস্থাপন কি?
নষ্ট হয়ে যাওয়া হাঁটুর ওপরের এবং নিচের হাড়ের কিছু অংশ কেটে ফেলে দিয়ে এতে কৃত্রিম হাঁটু ফিট করা যায় । ওপরে ও নিচে মেটাল এবং মাঝখানে প্লাস্টিক জাতীয় উন্নতমানের জিনিস লাগানো হয়। এ অপারেশনের ফলে বেশির ভাগ ব্যথা কমে যায় এবং অনেক স্বাভাবিক জীবনযাপন করা যায়। এটা একটা মেজর অপারেশন।

কোন কোন পরিস্থিতে হাঁটুর সম্পুর্ন প্রতিস্থাপন করবেনঃ
  • তীব্র বাতজনিত ব্যথা যা অন্যান্য চিকিৎসায় নিরাময় যোগ্য নয়।
  • বাতজনিত ব্যথা এবং বিকৃত হাঁটু ।
  • আঘাতজনিত কারনে তীব্র ব্যথা যা ওষুধেও নিরাময়যোগ্য নয় ।
  • অন্যান্য আরো কিছু শর্ত আছে যেইখানে সার্জনকে সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপন এর সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
কোনো অবস্থাতেই যেসব ক্ষেত্রে হাঁটুর সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপন করা যাবে নাঃ
  • সম্প্রতি হাঁটুর ইনফেকশন হলে।
  • শরীরের অন্যান্য যায়গায় কোনো ইনফেকশন থাকলে।
  • মাংসপেশি বেশি দুর্বল এবং হাঁটুর পেছন দিকে বেশি হেলে গেলে।
  • হাঁটুর সামনের দিকের Extensor apparatus যেমন - বাটি , রগ বা মাংসপেশির discontinuity বা dysfunction থাকলে।
এ ছাড়া রোগীর সার্বিক শারীরিক অবস্থা , অন্যান্য রোগ যেমন কারনে অজ্ঞান করলে কোনো অসুবিধা হয় কিনা এসব বিবেচনা করে এ অপারেশন এর সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
অপারেশনর পরবর্তী সময়ে করনীয়ঃ
  • তিন চার দিন পর ওয়াকারের সাহায্য নিয়ে হাটা যায় ।
  • আস্তে আস্তে হাঁটু ভাঁজ করার ব্যায়াম ।
  • বিছানা বা চেয়ারের পাশে পা ভাঁজ করে বসা।
  • উরুসহ পায়ের অন্যান্য মাংসপেশি মজবুতকরনের ব্যায়াম।
  • পায়ে ভর দিয়ে হাঁটা ইত্যাদি ।
পরামর্শক
ডাঃ ওয়াকিল আহমদ
এমবিবিএস(সিইউ), এম পি এস (সার্জারি) এম এস (আর্থো:) , ফেলো, স্পোর্টস মেডিসিন(সিঙ্গাপুর)